Error. Page cannot be displayed. Please contact your service provider for more details. (12)

সমুদ্র সম্পদ সদ্ব্যবহারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে

4ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সমুদ্রবিজ্ঞানের ওপর তার রয়েছে জ্ঞান। দেশের সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা, নিরাপত্তা, করণীয়সহ নানা বিষয়ে সম্প্রতি তার সঙ্গে অষ্টপ্রহরের কথা হয়। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এম এম মুসা ও মাসুম বিল্লাহ

আমরা মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রবিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বড় একটা সমস্যার সমাধান করলাম। এখানে সম্ভাবনা আছে….
সম্ভাবনা আসলে প্রচুর। বৈশ্বিক একটা পরিসংখ্যান দিলে সামুদ্রিক সম্পদের সমৃদ্ধি বোঝা যাবে। প্রথমত. কোস্টাল ট্যুরিজম। এ থেকে সারা পৃথিবীতে রাজস্ব আসে ১৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয়ত. শিপিং। এ থেকে রাজস্ব আসে ১৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৃতীয়ত. তেল ও গ্যাস। এ থেকে রাজস্ব আসে ১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর চতুর্থত. মাছ। এ থেকে রাজস্ব আসে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশটির মোট জিডিপির ১ শতাংশ আসে কোস্টাল ট্যুরিজম থেকে। তাহলে আমরা সহজেই বলতে পারি, সমুদ্র এমন এক জলরাশি, যা দেশে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটা যে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করতে পারে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
একসময় মিয়ানমার কেবল একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা ছিল; যেখানে আমরা কিছুই করতে পারতাম না। সেখানে আমরা না মাছ ধরতে, না তেল-গ্যাস উত্তোলন করতে যেতে পারতাম। ভারতের ক্ষেত্রেও তথৈবচ। বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশ টেন্ডার আহ্বান করেছিল। কিন্তু ভারত তাতে আপত্তি জানিয়ে বিদেশী তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানিকে জানিয়ে দিয়েছে, সেটা বিরোধপূর্ণ এলাকা হওয়ায় সেখানে তারা যেতে পারবে না। সে সময় আমরা কিছুই করতে পারেনি। এখন মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে এলাকা নিয়ে বিরোধ ছিল তার মীমাংসা হলো। আর তিনটি জায়গা মিলে আমরা এক বিরাট জায়গা পেলাম।
এ তিনটি জায়গার সামুদ্রিক সম্পদকে আমরা প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করি। প্রাণিজ সম্পদ ও খনিজ সম্পদ। প্রাণিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী যেমন— চিংড়ি, শামুক, ঝিনুক, স্কুইড, কাঁকড়া, অক্টোপাস, কাটল ফিশ ইত্যাদি। এছাড়া আছে সামুদ্রিক শৈবাল। পৃথিবীর বহু দেশের মানুষ সামুদ্রিক শৈবাল খায় এবং এটা আমাদের শরীরের জন্য খুবই ভালো। প্রথমে আসি মাছের কথায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৩৩ লাখ টন মাছ উৎপাদন করে। এর মধ্যে ছয় লাখ টন সামুদ্রিক মাছ; যা মোট ধৃত মাছের ১৮ শতাংশ। তাহলে এটা বলা যায়, আমাদের সামুদ্রিক মাছের অবদান একেবারে কম নয়। অন্যান্য জলজ প্রাণী রফতানির মূল্য ২০-৩০ কোটি টাকার কম নয়।
আপনি বলছেন সমুদ্রবিরোধ মীমাংসার আগে ছয় লাখ টন মাছ ধরা হতো। এখন কি এর পরিমাণ বাড়বে?
হ্যাঁ। এই পরিমাণ মাছ ধরে আমাদের সনাতনী ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে। এর মধ্যে ডিঙ্গি নৌকা আছে ৫০ হাজার, ২৫ হাজার আছে ইঞ্জিনচালিত। আর ২৫ হাজার ইঞ্জিনবিহীন নৌকা। সব মিলিয়ে এক লাখ ছোটখাটো নৌকা। এসব নৌকা দিয়ে সমুদ্র-তীরবর্তী অঞ্চলে জেলেরা সিংহভাগ মাছ ধরে। অর্থাৎ ওই ছয় লাখ টনের ৯১ শতাংশ মাছই এসব নৌকা দিয়ে ধরা হয়। আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশিং ট্রলার আছে মাত্র ১৮৬টি। এ ট্রলার দিয়ে মাছ ধরা হয় মাত্র ৯ শতাংশ।
আমরা তো এখন বিশাল সামুদ্রিক এলাকা পেলাম। সেক্ষেত্রে মাছ উৎপাদন বাড়াতে কী করা যায়?
খেয়াল করলে দেখা যায়, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারগুলো কেবল চিংড়ি মাছ ধরে। কারণ চিংড়ি মাছে লাভ বেশি। এজন্য তারা অন্য মাছ ধরতে চায় না। তারা কখনো Exclusive Economic Zone (EEZ) (২০০ নটিক্যাল মাইল) পর্যন্ত যায় না। ঘুরে ফিরে যে জায়গায় সনাতনী ডিঙ্গি নৌকাগুলো চলাচল করে সেখানেই তারা মাছ ধরে। অথচ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের ক্ষেত্রে নিয়ম আছে, তারা ৪০ মিটার কম গভীরতায় আসতে পারবে না। কিন্তু মাছ বেশি হওয়ায় তারা বরাবরই এখানে চলে আসে। তারা এখানে বিচ ট্রল করে নিচে থেকে টেনে যা আছে সবই নিয়ে চলে আসে। আমাদের প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য এটা বিশাল হুমকি। সুতরাং সরকারকে এটা নিষিদ্ধ করে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এখন যে সমুদ্র এলাকা পেলাম সেখানে ওই ট্রলারগুলো মাছ ধরতে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে তাদেরকে বলতে হবে, তারা কেবল বিচ ট্রল না করে ডিমারস্যাল ফিশের পাশাপাশি প্যালাজিক ফিশ যেন ধরে। অর্থাৎ কেবল নিচের মাছ ধরলে হবে না বরং উপরের মাছও ধরতে হবে। সুতরাং ট্রলার সংখ্যা বাড়িয়ে কেবল EEZ ছাড়িয়ে অন্যত্রও মাছ ধরতে হবে। পাশাপাশি ফিশিংয়ে লং লাইনের মতো বিভিন্নতাও আনতে হবে। যেমন— টুনা। বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ টুনা মাছ ধরা হয় উদ্দেশ্যবিহীনভাবে। আমরা অন্য মাছ ধরতে গেলে ফাঁকতালে টুনা চলে আসে। টুনা ফিশিংয়ের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকতে হবে।
আমাদের মত্স্য আহরণক্ষেত্র কেবল চারটি। সেগুলো হলো— সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, সেন্ট্রাল প্যাচ, সাউথ প্যাচ ও সাউথ অব সাউথ প্যাচ। এ চারটিই হলো মাছের বিচরণভূমি। এই বিচরণভূমি থেকেই আমরা মাছ ধরি। এখন যে জায়গাগুলো আমাদের বেড়েছে, সেখানে নতুন বিচরণক্ষেত্র আবিষ্কার করতে হবে। তখন সেখান থেকে বাড়তি মাছ ধরা যাবে। সুতরাং এক্ষেত্রে সম্ভাবনা প্রচুর। এখন আমরা এসব জায়গায় কিছু কিছু কাজ করলে আমার ধারণা, মাছ উৎপাদন ৬ লাখ থেকে ১২ লাখ টনে উন্নীত করা যাবে। এখন আমাদের যে আমিষের চাহিদা আছে, তা বিদ্যমান প্রাণিজ সম্পদ দিয়ে মেটানো যাচ্ছে না। আমিষের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে মাছের অবদানই সবচেয়ে বেশি। যেখানে আমাদের প্রতিদিন ৩৫ গ্রাম আমিষ প্রয়োজন, সেখানে আমরা পাচ্ছি কেবল ২০ গ্রাম।
এটা তো প্রাণিজ সম্পদ; অপ্রাণিজ সম্পদ কী পরিমাণ রয়েছে?
অপ্রাণিজ সম্পদ বলতে আমরা বুঝি যাদের প্রাণ নেই। এক্ষেত্রে প্রথমে আসে তেল ও গ্যাস। ভারতের সঙ্গে আমাদের ১০টি ব্লক নিয়ে বিরোধ ছিল। এর মধ্যে ছয়-সাতটি ব্লকই একেবারেই নিখুঁত রয়ে গেছে। কিন্তু দু-তিনটি ব্লক আংশিকভাবে হারিয়েছি। এক্ষেত্রে সরকারকে সময়-সুযোগমতো আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করতে হবে। এরই মধ্যে সরকার ২০১১ সালে একটি জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছে। এ নীতি অনুযায়ী সরকার আর কোনোভাবেই গ্যাস রফতানি করবে না। এখানে রফতানি করা সম্ভবই নয়; এমনি আমাদের যে পরিমাণ গ্যাস আছে, তাতে নিজেদের প্রয়োজনই মিটবে না। আমাদের স্থলভাগে যে গ্যাস আছে, তা ১০-১২ বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং আমাদের অবশ্যই অফশোরে যেতে হবে। কাজটি এখনই করতে হবে।
অফশোরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে আমাদের দক্ষতা নেই। সেক্ষেত্রে শেভরন কিংবা কনোকোফিলিপসের মতো বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কিছু করা যায় কিনা?
ওসব বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে সরকারের চুক্তি তো আছে। এ চুক্তির ভিত্তিতে সরকার তেল-গ্যাস ইজারা দিচ্ছে। সরকার তাদের বলে দিচ্ছে, ১০ শতাংশ লোকবল বাংলাদেশ থেকে নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার জনবলকে বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে ট্যাগ করে দিতে হবে, যাতে তাদের কাছ থেকে শিখতে পারে। কিন্তু তাতেও আমরা তেমন লাভবান হব না। কেননা সক্ষমতা বৃদ্ধি হতে ১০-১২ বছর লেগে যাবে আর তত দিনে আমাদের গ্যাসও প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে যাবে।
এ তো গেল তেল-গ্যাস। এর বাইরে তো অনেক অপ্রাণিজ খনিজ আছে…
হ্যাঁ। অবশ্যই। সমুদ্রতীরে হাঁটাহাঁটি করলে আমরা দেখি যে, সেখানে অনেক ধরনের বালু আছে। আমরা মনে করি এসব সাধারণ বালু। কিন্তু সেখানে বিশেষজ্ঞ কেউ থাকলে বুঝতে পারবেন এ বালুর ভেতরে অনেক খনিজ পদার্থ আছে। আমরা বাংলাদেশে ১৭ ধরনের খনিজ বালু চিহ্নিত করেছি। তার মধ্যে আট ধরনের বালু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব বালু কী পরিমাণ আছে, তা ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এই আটটি বালু অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এবার আসা যাক জলে। সিবেডে গেলে দেখা যাবে সেখানে তেল-গ্যাস ছাড়াও প্লেসার, ফসফরাইট, ইভাপোরাইট, পলিমেটালিক সালফাইড, ম্যাঙ্গানিজ নোডোলস, গ্যাস হাইড্রেট, ম্যাগনেসিয়াম ও লবণ আছে। পৃথিবীতে যা ম্যাগনেসিয়াম আছে, তার অর্ধেকেরই বেশি আসে সমুদ্র থেকে। আর বাংলাদেশে সব লবণই সমুদ্র থেকে আসে। পৃথিবীতে দুই ধরনের লবণ আছে। এর একটা পাথুরে লবণ। এটি পাকিস্তান, ইরানসহ অনেক দেশে পাওয়া যায়।
খনিজ বালু সম্পর্কে কি বাংলাদেশ জানে?
হ্যাঁ। খনিজ বালু সম্পর্কে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন জানে। এর মধ্যে চারটি বালু রফতানিও করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে অনুমতি দেয়া উচিত। কেননা হুট করে দিলে এটা পরিবেশের ক্ষতি করবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাংলাদেশের সিবেডে কী পরিমাণ অন্যান্য খনিজ পদার্থ আছে, তা আমরা জানি না। এগুলোকে বলে রেয়ার আর্থ ম্যাটারিয়েল। এগুলো সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত। এর সবই অবশ্য অনবায়নযোগ্য।
তাহলে কি সমুদ্রে নবায়নযোগ্য সম্পদ পাওয়া যেতে পারে?
অবশ্যই পেতে পারেন। এর মধ্যে উইন্ড, ওয়েভ, টাইডাল, ওশান কারেন্ট এবং সর্বোপরি ওটেক এনার্জি পেতে পারেন। এক্ষেত্রে আরেকটি সম্পদ আছে সেটা হলো, মেরিন থেরাপিউটিক। এটি ড্রাগ তৈরিতে ব্যবহার হয়। সারা পৃথিবীতে আমরা সমুদ্র থেকে ১০ হাজার কম্পাউন্ড পেয়েছি; যা ড্রাগ তৈরিতে লাগে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ থেকে নতুন প্রজন্মের ড্রাগ তৈরি হবে। অথচ আমরা এ সম্পর্কে কিছুই জানি না।
EEZ এলাকায় মাছ আহরণে যেতে হলে তো অবশ্যই আমাদের উচ্চপ্রযুক্তির ট্রলার সংখ্যা বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে তো বেসরকারি বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আপনি কী মনে করেন?
নিশ্চয়ই। এক্ষেত্রে অবশ্যই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নতুন উচ্চপ্রযুক্তির ট্রলার কিনতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বছরখানেক আগে বিশেষত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগের সরকার ৩০-৩৫টি ট্রলার কিনেছে। এগুলো নিয়েই সম্ভবত ১৮৬টি ট্রলার হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে বলতে হবে তারা যেন কোনোভাবেই ৪০ মিটার কম গভীরতায় না আসে।
এক্ষেত্রে তো তদারকির ব্যাপারও আছে। কারা এখানে তদারক করবে?
সমুদ্র অঞ্চলে সার্বিক তদারক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। মূলত কোস্টগার্ডকে সাহায্য করে নৌবাহিনী। এক্ষেত্রে তদারকির জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক জাহাজ নেই। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে লোকবলের ঘাটতি রয়েছে। আমি মনে করি, যথাযথ মেরিটাইম নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নন-মিলিটারি হুমকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশে বিদ্যমান সমুদ্র সম্পদগুলো কাজে লাগাতে কী করতে হবে বলে আপনি মনে করেন?
এক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা দরকার, যা বাংলাদেশে নেই। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কিছুটা হলেও এগিয়ে এসেছে। আমি তাদেরকে সাধুবাদ জানাই।
সমুদ্রকে সর্বতোভাবে কাজে লাগাতে হলে এক্ষেত্রে তো গবেষণার বিকল্প নেই। বাংলাদেশে এ গবেষণা কেমন হচ্ছে?
আমরা অনেকদিন ধরে বলে আসছি এ-সংক্রান্ত গবেষণা বাড়ানোর জন্য। কক্সবাজারে একটি ফিল্ড স্টেশন স্থাপনের কথা বলছি। কিন্তু এ কথা কেউ শুনছেন না। দুই বছর হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ খুলেছি। দুই বছরেই আমরা তত্পরতা শুরু করে দিয়েছি। এরই মধ্যে আমরা সামুদ্রিক পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও ঘনত্ব পরিমাপের জন্য বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি এনেছি। এভাবে যদি ধীরে ধীরে আমরা ফিল্ড স্টেশনগুলো স্থাপন করতে পারি, ল্যাবরেটরি নির্মাণ করতে পারি, তবে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারব।
অনেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিন সায়েন্স খোলার পাশাপাশি আলাদা মন্ত্রণালয় খোলার পরামর্শ দিচ্ছেন। আপনি কী মনে করেন?
আমার মনে হয়, আলাদা করে মন্ত্রণালয় না খুললেও একটা কমিশন করা যেতে পারে। একটি অধিদফতর করতে পারে। সমুদ্র গবেষণার জন্য একটি আলাদা গবেষণা সেলও গঠন করা যেতে পারে।
সমুদ্র সম্পদ জরিপ কতটা ব্যয়বহুল?
এটি অনেক ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে ওশোনোগ্রাফিক জাহাজের তেল খরচ ১ ঘণ্টায় পাঁচ লাখ টাকা। এটা খুবই ব্যয়বহুল।
এ মুহূর্তে গবেষণার ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
এক্ষেত্রে মাছসহ অন্যান্য প্রাণিজ সম্পদ এবং অপ্রাণিজ সম্পদ বিশেষত নবায়নযোগ্য সম্পদের প্রতি বেশি জোর দিতে হবে।
এসবের ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা উচিত?
নিঃসন্দেহে ব্যবস্থাপনা খুবই কঠিন বিষয়। এ কাজগুলো প্রায় ১০-১২টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে এ বিষয়গুলোর ব্যবস্থাপনায় সরকার কীভাবে কাজ করবে বিজ্ঞানী হিসেবে আমি তা বলতে পারব না। এটি সরকারই ভালো বুঝবে।

Leave a Reply

*

captcha *